সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অপরাজিতা 'দেবীসূক্ত'




অপরাজিতা 'দেবীসূক্ত' 


আদ্যাশক্তি মহামায়া অচিন্ত্য, এরপরেও অসুর নিধনে তিনি বারেবারেই আবির্ভূতা হন। পুরাকালে শুম্ভনিশুম্ভ নামক দুই অসুরদ্বয় মহাপ্রতাপশালী হয়ে ত্রিলোক জয় করে নেয়। তারা স্বর্গের অধিকারের সাথে সাথে দেবতাদের যজ্ঞভাগ পর্যন্ত গ্রহণ করা শুরু করে দেয়। আসুরিক শক্তির প্রভাবে এভাবে, দৈবশক্তির পক্ষে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে। তখন সূর্য, চন্দ্র, কুবের, যম, বরুণ, অগ্নি ইত্যাদি প্রধান দেবতাগণ শুম্ভনিশুম্ভ নামক মহাসুরদ্বয় কর্তৃক স্ব-স্ব অধিকার হতে বিচ্যুত ও স্বর্গ হতে বিতাড়িত হয়ে বিপদ থেকে উদ্ধারে আদ্যাশক্তি মহামায়ার স্মরণ করে। তখন দেবী অপরাজিতা দুর্গারূপে দেবতাদের সম্মুখে আবির্ভূত হন। অপরাজিতা তাঁকেই বলা হয়, যাঁকে কখনো পরাজিত করা যায় না।

হতাধিকারাস্ত্রিদশাস্তাভ্যাং সর্বে নিরাকৃতাঃ । 
মহাসুরাভ্যাং তাং দেবীং সংস্মরন্ত্যপরাজিতাম্ ॥ 
তয়াস্মাকং বরো দত্তো যথাপসু স্মৃতাখিলা । 
ভবতাং নাশয়িষ্যামি তৎক্ষণাৎ পরমাপদঃ ॥ 
(শ্রীচণ্ডী:৫.৫-৬)

সকল দেবতারা সম্মিলিতভাবে মহাদেবীর সন্তুষ্টির জন্য, তাঁর উদ্দেশ্যে স্তব করে। দেবতাদের স্তবে প্রসন্ন হয়ে অপরাজিতারূপিণী দুর্গা শুম্ভনিশুম্ভ নামক অসুরভ্রাতৃদ্বয়কে বিনাশ করে। দেবতাদের কৃত এই স্তোবকে তান্ত্রিক দেবীসূক্ত বলে অবিহিত করা হয়। স্তবটি যেহেতু মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত শ্রীচণ্ডীর অন্তর্ভুক্ত তাই একে পৌরাণিক দেবীসূক্ত বলার কথা। কিন্তু কেন তান্ত্রিক দেবীসূক্ত বলা হয়, সে বিষয়টি অজ্ঞাত। অত্যন্ত পবিত্র তান্ত্রিক দেবীসূক্তকে 'অপরাজিতাস্তব' নামেও অবিহিত করা হয়। কারণ দেবতারা দেবীকে যখন স্তোত্র করছিলেন, তখন মহাদেবী এক অপরাজিতা নারীমূর্তিতে আবির্ভূতা হয়েছিলেন।লক্ষ্মীতন্ত্রে এই স্তোব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই দেবীসৃক্ত সর্বফলদায়ক। এই সৃক্ত দ্বারা নিত্য দেবীর স্তব করলে মানুষ সকল ক্লেশ অতিক্রম করে মুক্তিরূপ মহাঐশ্বর্য লাভ করেন।

নমো দেব্যাদিকং দেবীসূক্তং সর্বফলপ্ৰদম্ ।
ইমাং দেবীং স্তবন্নিত্যং স্তোত্রেণানেন মামিহ ॥ ক্লেশানতীত্য সকলানৈশ্বৰ্যং মহদশ্নুতে ॥

সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসী প্রকৃতিভেদে বিষ্ণুমায়া ত্রিবিধা। এই জন্য প্রত্যেকটি শ্লোকে তিনবার করে ‘তস্যৈ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। বিষ্ণুমায়ার সৃষ্টিশক্তি রাজসী, স্থিতিশক্তি সাত্ত্বিকী এবং সংহারশক্তি তামসী।কায়িক, বাচিক ও মানসিক এই তিন প্রকারের প্রণামকে উপলক্ষ করে প্রত্যেক শ্লোকের শেষে ‘নমঃ' শব্দের ত্রিরুক্তি করা হয়েছে। 

দেবা ঊচুঃ । ৮ (ওঁ ঐ)
নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ।
নমঃ প্ৰকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্ ॥ ৯
রৌদ্রায়ৈ নমো নিত্যায়ৈ গৌৰ্যৈ ধাত্র্যৈ নমো নমঃ । জ্যোৎস্নায়ৈ চেন্দুরূপিণ্যৈ সুখায়ৈ সততং নমঃ ॥ ১০ কল্যাণ্যৈ প্ৰণতা বৃদ্ধ্যৈ সিদ্ধ্যৈ কুৰ্মো নমো নমঃ । 
নৈঋত্যৈ ভূভৃতাং লক্ষ্ম্যৈ শৰ্বাণ্যৈ তে নমো নমঃ ॥১১ 
দুর্গায়ৈ দুর্গপারায়ৈ সারায়ৈ সর্বকারিণ্যৈ ।
খ্যাত্যৈ তথৈব কৃষ্ণায়ৈ ধূম্ৰায়ৈ সততং নমঃ ॥ ১২
অতিসৌম্যাতিরৌদ্রায়ৈ নতাস্তস্যৈ নমো নমঃ ।
নমো জগৎপ্রতিষ্ঠায়ৈ দেব্যৈ কৃত্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৩ 
যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা। 
নমস্তস্যৈ (১৪) নমস্তস্যৈ (১৫) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৬
যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে।
নমস্তস্যৈ (১৭) নমস্তস্যৈ (১৮) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ১৯
যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ (২০) নমস্তস্যৈ (২১) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২২
যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ (২৩) নমস্তস্যৈ (২৪) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২৫ 
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (২৬) নমস্তস্যৈ (২৭) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ২৮
যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (২৯) নমস্তস্যৈ (৩০) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩১
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৩২) নমস্তস্যৈ (৩৩) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩৪
যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৩৫) নমস্তস্যৈ (৩৬) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৩৭ 
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ (৩৮) নমস্তস্যৈ (৩৯) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪০
যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৪১) নমস্তস্যৈ (৪২) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪৩
যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ (৪৪) নমস্তস্যৈ (৪৫) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪৬
যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৪৭) নমস্তস্যৈ (৪৮) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৪৯
যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ (৫০) নমস্তস্যৈ (৫১) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫২
যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৫৩) নমস্তস্যৈ (৫৪) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫৫
যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৫৬) নমস্তস্যৈ (৫৭) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৫৮
যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ (৫৯) নমস্তস্যৈ (৬০) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬১
যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ (৬২) নমস্তস্যৈ (৬৩) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬৪ 
যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ (৬৫) নমস্তস্যৈ (৬৬) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৬৭
যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ(৬৮) নমস্তস্যৈ(৬৯) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥৭০ 
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা । 
নমস্তস্যৈ(৭১) নমস্তস্যৈ (৭২) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭৩
যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ(৭৪) নমস্তস্যৈ (৭৫) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭৬
ইন্দ্রিয়াণামধিষ্ঠাত্রী ভূতানাঞ্চাখিলেষু যা । 
ভূতেষু সততং তস্যৈ ব্যাপ্তিদেব্যৈ নমো নমঃ ॥৭৭
চিতিরূপেণ যা কৃৎস্নমেতদ্ ব্যাপ্য স্থিতা জগৎ । নমস্তস্যৈ(৭৮) নমস্তস্যৈ (৭৯) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥৮০
(শ্রীচণ্ডী:৫.৮-৮০)

"মহামায়া অপরাজিতাকে দেবগণ বললেন—দেবীকে প্রণাম এবং মহাদেবীকে প্রণাম। সতত মঙ্গলদায়িনীকে প্রণাম। সৃষ্টিশক্তিরূপিণী প্রকৃতিকে প্রণাম। স্থিতিশক্তিরূপিণী ভদ্রাকে প্রণাম। নিত্য আমরা সমাহিত চিত্তে তাঁকে প্রণাম করি। ৮-৯
সংহারশক্তিস্বরূপা রৌদ্রাকে প্রণাম। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ এ ত্রিকালাতীত সত্তারূপিণীকে নিত্যাকে প্রণাম। গৌরী এবং জগদ্ধাত্রীকে প্রণাম। জ্যোৎস্নারূপা, চন্দ্ররূপা ও সুখস্বরূপাকে সতত প্রণাম। ১০
কল্যাণী, সমৃদ্ধিরূপা ও সিদ্ধিরূপা দেবীকে বারবার প্রণাম করি। অলক্ষ্মীরূপা, ভূপতিগণের লক্ষ্মীরূপা শর্বাণী দেবীকে বারবার প্রণাম করি। ১১
দুরধিগম্যা দুর্গা, দুস্তর সংসার সমুদ্র থেকে পরিত্রাণকারী, শক্তিরূপিণী, সর্ব কারণের কারণ, আদ্যাশক্তি নামে খ্যাতা, কৃষ্ণবর্ণা ও ধূম্রবর্ণা দুর্গা দেবীকে বারবার প্রণাম করি। ১২
বিদ্যারূপে অতিসৌম্যা এবং অবিদ্যারূপে অতি রৌদ্রাকে প্রণাম করি। তাঁকে বারবার প্রণাম। জগতের আশ্রয়রূপিণীকে এবং ক্রিয়ারূপা দেবীকে বারবার প্রণাম। ১৩
যে দেবী সকল প্রাণীতে বিষ্ণুমায়া নামে বেদাদি শাস্ত্রে অভিহিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ১৪-১৬
যে দেবী সকল প্রাণীর চেতনারূপে প্রসিদ্ধা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ১৭-১৯
যে দেবী সকল প্রাণীর বুদ্ধিরূপে অবস্থিতা তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।২০-২২
যে দেবী সর্বভূতে নিদ্রারূপে বিরাজিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ২৩-২৫
যে দেবী সর্বভূতে ক্ষুধারূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।২৬-২৮
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে ছায়ারূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।২৯-৩১
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে শক্তিরূপে অধিষ্ঠিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ৩২-৩৪
যে দেবী সর্বভূতে বিষয়-বাসনা নামক তৃষ্ণারূপে সংস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ৩৫-৩৭ 
যে দেবী সর্বভূতে ক্ষমারূপে, অর্থাৎ সামর্থ্যসত্ত্বেও অপকারীর প্রতি অপকারের অনিচ্ছারূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ৩৮-৪০ 
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে জাতিরূপে সংস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৪১-৪৩
যে দেবী সর্বভূতে লজ্জারূপে; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৪৪-৪৬ 
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে শান্তিরূপে সংস্থিতা;তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৪৭-৪৯ 
যে দেবী সর্বভূতে শ্রদ্ধারূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৫০-৫২
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে কান্তিরূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ৫৩-৫৫
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে লক্ষ্মীরূপে অবস্থিতা;তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৫৬-৫৮ 
যে দেবী সর্বভূতে কৃষি, গোরক্ষা ও বিবিধ বাণিজ্যাদি জীবিকা রূপে সংস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৫৯-৬১
যে দেবী সর্বভূতে স্মৃতিরূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ৬২-৬৪
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে দয়ারূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৬৫-৬৭
যে দেবী সর্বভূতে সন্তোষরূপে বা যথালাভে তুষ্টি, প্রাপ্ত বস্তুর অধিক প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা শূন্যতারূপে
অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার। ৬৮-৭০
যে দেবী সর্বপ্রাণীতে মাতৃরূপে অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৭১-৭৩
যে দেবী সর্বভূতে ভ্রান্তিরূপে সংস্থিতা;তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৭৪-৭৬ 
যিনি সকল প্রাণীতে চতুর্দশ ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতারূপে বিরাজিতা এবং যিনি পৃথিবী আদি পঞ্চ স্থূল ও পঞ্চ সূক্ষ্ম ভূতের প্রেরয়িত্রী, সেই বিশ্বব্যাপিকা' ব্রহ্মশক্তিরূপা দেবীকে বারংবার প্রণাম। ৭৭
যিনি চিৎশক্তিরূপে এই সমগ্র জগৎ ব্যাপিয়া অবস্থিতা; তাঁকে নমস্কার। তাঁকে নমস্কার। তাঁকে বারংবার নমস্কার।৭৮-৮০"

ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের ১২৫ সূক্ত সূক্ত 'দেবীসূক্ত'। বৈদিক এ সূক্তে আদ্যাশক্তি মহামায়ার মহিমা বর্ণিত হয়েছে। আটটি ঋগ্বেদীয় দেবীসূক্তের মন্ত্রদ্রষ্ট্রী ঋষি হলেন অম্ভৃণ মহর্ষির কন্যা বাক্। তিনি ধ্যানযোগে সমাধি অবস্থায় নিজের মধ্যেই আদ্যাশক্তি মহামায়াকে উপলব্ধি করে এ মন্ত্রটি দর্শন করেছিলেন। সূক্তের মন্ত্রগুলোতে উপলব্ধি করা যায় যে, অম্ভৃণ মহর্ষির কন্যা বাক্ জগতের পরমেশ্বরী আদ্যাশক্তি মহামায়ার সাথে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। এ অবস্থানেই সাধকের মুক্তি ঘটে। এ সূক্তে শুধু দ্বিতীয় মন্ত্রটিই জগতীছন্দে রচিত, অন্য অবশিষ্ট সাতটি মন্ত্রই ত্রিষ্টুচ্ছন্দে রচিত। পরব্রহ্মময়ী আদ্যাশক্তি জগন্মাতার প্রীতির জন্য এ সূক্তটির বিনিয়োগ করা হয়।সপ্তশতী শ্রীচণ্ডী পাঠ করার পরে দেবীসূক্ত-পাঠের বিধান রয়েছে। ঋগ্বেদ সংহিতা দেবীসূক্তের প্রথমমন্ত্র হল:

অহং রুদ্রেভির্বমুভিশ্চরা-
ম্যহমাদিত্যেরুত বিশ্বদেবৈঃ। 
অহং মিত্রাবরুণোভা বিভ-
র্ম্যহমিদ্ৰাগ্নী অহমশ্বিনোভা॥ 
(ঋগ্বেদ সংহিতা: ১০.১২৫.১)

"আমি একাদশ রুদ্ররূপে, অষ্টবসুরূপে, দ্বাদশ আদিত্যরূপে এবং সর্বদেবরূপে জগতে বিচরণ করি।আমি মিত্র ও বরুণ, উভয় দেবতাকে ধারণ করি। আমি ইন্দ্র, অগ্নি এবং অশ্বিনীকুমারদ্বয়কে ধারণ করি। 

কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী 
সহকারী অধ্যাপক, 
সংস্কৃত বিভাগ, 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্যসমূহ